দুঃখ প্রকাশ করে অনন্ত জলিলের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন সেফুদা

বিডি7ডে ডেস্ক:  এবার বাংলাদেশের সিনেমা জগতের সুপারস্টার অনন্ত জলিলের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন বিতর্কিত অস্ট্রিয়া প্রবাসী সেফাতুল্লাহ ওরফে সেফুদা।

অনন্ত-সেফুদার দ্বন্দ্বের শুরু মূলত আশরাফুল হোসেন আলম ওরফে হিরো আলমকে নিয়ে। অনন্ত জলিলের আপকামিং সিনেমায় অভিনয় করার জন্য হিরো আলমকে নেয়ার কথা ছিল। এ জন্য হিরো আলমের সঙ্গে চুক্তিও করেন অনন্ত। তবে শেষ পর্যন্ত ‘হিরো আলম আমার মর্যাদা বোঝে নাই’ উল্লেখ করে তাকে সিনেমা থেকে বাদ দেন অনন্ত জলিল।

 

এতেই ক্ষেপেছিলেন সেফুদা। এক ভিডিও বার্তায় চিরায়িত নিয়মে অনন্ত জলিলকে ‘অশিক্ষিত, মূর্খ’ বলে উল্লেখ করেন সেফুদা। পরবর্তীতে এক ভিডিও বার্তা দেন অনন্ত জলিলও। সেখানে সেফুদা ও হিরো আলমের কড়া সমালোচনা করেন অনন্ত। নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও আর্থিক অবস্থানও বার্তায় উল্লেখ করেন অনন্ত।

সেফুদার উদ্দেশ্যে অনন্ত জলিল বলেন, ‘আপনি বলেছেন, আমি অশিক্ষিত। অথচ ২০০১ সালে আমি ম্যানচেস্টার ইউনিভার্সিটি থেকে বিবিএ কমপ্লিট করি। তিনি বলেছেন, আমি গরিব। এজেআই (অনন্ত জলিল ইন্ডাস্ট্রিজ) গ্রুপ ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। আমাদেরর ফ্যামিলি বিজনেস। আমার বিজনেসের নাম। আমার ইন্ডাস্ট্রিতে ১১ হাজার লোক কাজ করে। এই কোম্পানি রান করতে প্রতি মাসে ১৭-১৮ কোটি টাকা খরচ হয়। ২০২১ সালে এখানে ১৫ হাজার লোক কাজ করবে। তিনি আমাকে বলেন আমি গরিব, ছোটলোক। বাংলাদেশে এই পর্যন্ত ৯ বার আমি সিআইপি হয়েছি। প্রেজেন্ট সিআইপি আমি। আপনি আল্লাহর কাছে তওবা করেন। আপনি আল্লাহর কাছে বলেন, হে আল্লাহ আমি মানুষের সম্পর্কে না জেনে যে কটূক্তি করেছি তা থেকে আমাকে ক্ষমা করে দিন। আপনাকে একজন স্যান্ডেল দিয়ে পেটানোর কথাও বলেছেন। সেফুদা সাহেব আমার জানা মতে, আপনাকে দোয়া করার মতো কেউ নেই। আজ আমি আপনার জন্য দোয়া করলাম। আল্লাহ যেন আপনাকে ক্ষমা করে দেন। সেফুদা সাহেব আমি ক্ষমা করতে শিখেছি। আপনাদের দুজনকেই আমি ক্ষমা করে দিলাম। ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।’

অনন্তের ভিডিও বার্তার পর এক ভিডিও বার্তায় সেফুদা বলেন, ‘আমি আশীর্বাদ করি অনন্ত জলিলকে। তোমার অনেকগুলো প্রজেক্ট দেখলাম খুবই ভালো। মানবতার জন্য কাজ করছ। ধন্যবাদ। আমি অত্যন্ত দুঃখিত তোমার মনে কষ্ট দেয়ার জন্য।’

সুশান্ত রাজপুতের আত্মহত্যার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন, কয়েকজন অভিনেতার আত্মহত্যার কথা। বলিউডের অভিনেতা মিস্টার রাজপুত সিং। মানসিক ভারসাম্য রক্ষা না করতে পারলে অনেকেই আত্মহত্যা করেন। আমি অনন্ত জলিলকে খারাপ মনে করিনি। আমিও দেখেছি অনলাইন মিডিয়াতে, যখন সে ইংল্যান্ড থেকে ফিরে এসে বাংলাদেশের মিডিয়ায় ছবি করতে চেয়েছিল তখন বাংলাদেশের কিছুসংখ্যক মানুষ নেতিবাচক কথা বলে। বাঙালিদের স্বভাবই হলো কেউ উঠতে চাইলে ঠেঙে ধরিয়ে নামিয়ে দেয়। এটা আমার বেলায় হয়েছে। কিন্তু পারেনি। যাদের মনোবল শক্ত, যাকে মানুষ ভালোবাসে, মানুষের দোয়া আছে, মা-বাবার দোয়া আছে তাদের কখনও ঠেকিয়ে রাখা যায় না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আপনি যখন বুলেট ছেড়ে দেন, তখন কি বুলেটকে ফিরিয়ে আনতে পারেন? পারবেন না। সেফুদা একটা বুলেটের মতো, রকেটের মতো চলছে। ঠিক অনন্ত জলিলের মাঝেও আমি দেখেছি, সেই জিদ, বড় হওয়ার যেই বাসনা আছে।’