শিক্ষার্থীদের জন্য বড় সুখবর

বিডি7ডে ডেস্ক: দেশের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা অনেকে শিক্ষার্থী চাইলেই অনলাইন ক্লাসে যুক্ত হতে পারছেন না। বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে তারা। ইন্টারনেটের সমস্যাতো আছেই সেইসঙ্গে আবার অনেকের কাছে নেই উপযুক্ত ডিভাইজ। এমন পরিস্থিতিতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলছেন, কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চাইলে তাদের শিক্ষার্থীদের জন্য বিনা সুদে কিস্তিতে মোবাইল ফোন বা ল্যাপটপ এবং স্বল্পমূল্যে ইন্টারনেটের ব্যবস্থা করা হবে।

সম্প্রতি তিনি বলেন, কিস্তিতে শিক্ষার্থীরা যাতে ল্যাপটপ বা মোবাইল নিতে পারে আমরা সেই উদ্যোগ নিয়েছি। ওয়ালটন ও সিঙ্গার বিনা সুদে কিস্তিতে শিক্ষার্থীদের ল্যাপটপ বা মোবাইল হ্যান্ডসেট সরবরাহের আশ্বাস দিয়েছে। যেকোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উদ্যোগ নিলে তাদের শিক্ষার্থীদের এ সুবিধা দেয়া হবে। এক্ষেত্রে দীর্ঘ মেয়াদী কিস্তির সুবিধা দেয়া হবে। প্রতি মাসে এক থেকে দেড় হাজার টাকায় যেন এ সুবিধা পায় তা নিশ্চিত করা হবে।

শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে কম্পিউটার বা ল্যাপটপ দেয়া সম্ভব নয় জানিয়ে পলক বলেন, ‘আমাদের কাছে এটি বাস্তবসম্মত নয়, কারণ বিনামূল্যে দিলে অনেক ক্ষেত্রেই তার গুরুত্ব থাকে না। এছাড়া যখন ক্লাস চলবে সেই সময় ধরে প্যাকেজ দেয়া যায় কি না, এ নিয়ে অপারেটরদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।’

এদিকে অনলাইন ক্লাসে সব শিক্ষার্থীকে যুক্ত করতে যাদের স্মার্টফোন, ট্যাব বা ল্যাপটপ দরকার, সরকারের পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে উদ্যোগ নিয়ে তা সরবরাহের তাগিদ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘যেসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের ডিভাইসের সমস্যা আছে তারা উদ্যোগ নিয়ে তাদের অ্যালামনাইদের মাধ্যমে এর সমাধান করতে পারেন। বুয়েটে যাদের স্মার্টফোন নেই তাদের স্মার্ট ফোন কিনে দিতে ১০ লাখ টাকার মত লাগবে, এটা বুয়েটের যে কোনো অ্যালামনাই কিনে দিতে পারেন। শুধু সঙ্কটকালেই নয়, পৃথিবীতে বড় বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো চলে অ্যালামনাইদের টাকায়। আমরা কেন সেই চেষ্টা করব না? একটু চিন্তা করতে হবে, একটু সময় দিতে হবে, সেটা না করে আমরা সরকারের দিকে তাকিয়ে থাকি।’

‘সঙ্কটকাল ছাড়াও সব সময়ের জন্য ভার্চুয়ালি পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার মতো ব্যবস্থা করতে হবে’ জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘করোনার কারণে আমাদের তা আগেই করতে হচ্ছে।’

ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার শিক্ষার্থীদের জন্য স্মার্ট ডিভাইস ও ইন্টারনেট জোগানের সঙ্গে শিক্ষার ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরিতে নজর দেয়ার তাগিদ দিয়েছেন।

‘দেশে যত মানুষ মোবাইল ব্যবহার করেন তাদের ৩০ শতাংশের হাতে স্মার্টফোন রয়েছে’ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ফোরজি ডিভাইস ছাড়া অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চালানো সম্ভব নয়। ইতোমধ্যে অপারেটরদের ইউনিয়ন পর্যন্ত ফোরজি সেবা পৌঁছে দিতে বলা হয়েছে। তারা জানিয়েছে, এ বছরের মধ্যে সকল উপজেলায় ফোরজি পৌঁছে দেবে। এ অবস্থা দাঁড়াবে এনিয়ে আমাদের কোনো পূর্ব প্রস্তুতি ছিল না। আমাদের কাজ অবকাঠামো তৈরি করা, তবে এক্ষেত্রে আমাদের কিছু ত্রুটি আছে, ফোরজি বা উচ্চ গতির ইন্টারনেট সেবা গ্রাম পর্যন্ত যায়নি। ইন্টারনেট সংযোগ থাকলেও ছাত্রছাত্রীদের হাতে ফোরজি ডিভাইস নেই, এটাও সমস্যা।’

সূত্রমতে, দেশে প্রাথমিক থেকে উচ্চ শিক্ষা স্তরে চার কোটি পাঁচ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী রয়েছে। দেশে মোবাইল গ্রাহক সংখ্যা ১৬ কোটি ১৫ লাখ ছয় হাজার, এরমধ্যে ৩০ শতাংশ স্মার্টফোন ব্যবহার করেন। বিটিআরসির হিসেবে, দেশে ইন্টারনেট সংযোগ সংখ্যা ১০ কোটি ২১ লাখ ১৩ হাজার। এর মধ্যে নয় কোটি ৪০ লাখেরও বেশি মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহার করে।

প্রসঙ্গত, দেশে করোনা সংক্রমিত রোগী শনাক্তের পর গত ১৭ মার্চ থেকে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। আগামী ৬ আগস্ট পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা করা আছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান টানা বন্ধ থাকায় পাঠদানের ধারাবাহিকতা রাখতে গত ২৯ মার্চ থেকে মাধ্যমিকের এবং ৭ এপ্রিল থেকে প্রাথমিকের ক্লাস সংসদ টিভিতে দেখানো হচ্ছে। সরকারি-বেসরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিজেদের মতো করে অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চালাচ্ছে।

দেশের সরকারি-বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে এক কোটি ৬৩ লাখ ৩৬ হাজার ৯৬ জন, মাধ্যমিক স্তরে দুই কোটি এবং উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ৪২ লাখ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে।